‘যারা খুন করে তারা জানে না একজন মানুষ মানে একটা জগত্’
সৈয়দ আবদাল আহমদ
‘যারা খুন করে তার জানে না, একজন মানুষ মানে একটা জগত্। কত সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে একটা মানুষ—বউ-বাচ্চা, মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু। ওরা তা ভুলে যায়। ওরা মারে বিচ্ছিন্ন একটা মানুষকে। সেই মার ওই লোকটাকে ছাড়িয়েও ছড়িয়ে যায়। একজন মানুষের সঙ্গে আরও কত মানুষ শেষ হয়। যারা খুন করে তারা কি তা জানে?’
না, জানে না। অন্তত বাংলাদেশে জানে না। অনুজ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির নৃশংস খুন বার বার এই বিখ্যাত লাইনগুলোই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফেরা উপন্যাসে শীর্ষেন্দু বাংলাদেশকে কল্পনা করেই যেন খুন নিয়ে এই লাইন ক’টি লিখেছেন। একটু ভাবুন তো, সাগর, রুনি আর মেঘ—কত সুন্দর একটা জগত্, একটা সংসার, একটা কাহিনী। মুহূর্তেই সব এলোমেলো। যারা খুন করেছে, তারা বিচ্ছিন্ন দুটো মানুষকে খুন করেছে। কিন্তু এই খুনে চুরমার হয়ে গেছে একটা জগত্, একটা স্বপ্ন। ছোট্ট শিশু মেঘ আজ একা, অসহায়। কাঁদতেও ভুলে গেছে। সে শুধু এদিক-ওদিক তাকায়। কিছুই বলতে পারে না। বাবা-মায়ের সঙ্গে অনুপম এক বন্ধনে আবদ্ধ ছিল মেঘ। সেই বন্ধন এক পৈশাচিক খুনে ছিঁড়ে গেছে। এই দুটি মানুষের সঙ্গে যে জড়িয়ে ছিল আরও কত জীবন, কত কাহিনী—আজ সংবাদপত্রের পাতা খুললেই চোখে পড়ে। প্রতিদিনই ওদের নিয়ে লেখা বের হচ্ছে। হয়তো তারা কেউ সাগর-রুনির বন্ধু, হয়তো স্বজন। এই খুন অগ্রজ সাংবাদিক হিসেবে আমাকেই শুধু নয়; স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা দেশের মানুষকে, গোটা সমাজকে। একই সঙ্গে ওদের শিশুসন্তান মেঘের ভবিষ্যত্ নিয়েও আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। গত শুক্রবার শেষ রাতে কিংবা শনিবার অতি প্রত্যুষে নিজ বাসার বেডরুমে খুন হয় এই সাংবাদিক দম্পতি। আগের দিন দু’জনই অফিস করেছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে—একজন এটিএন বাংলায়, অন্যজন মাছরাঙা টিভিতে। রুনি দিনের পালায় ডিউটি করে বাড়ি ফিরেছিলেন বিকালে আর সাগর রাতে অফিস থেকে ফিরেছেন বাসায়। কিন্তু খুনিরা একসঙ্গেই তাদের খুন করল অপরিচিত কোনো জায়গায় নয়, তাদেরই বাসার একেবারে বেডরুমে। যে বাসভবনকে আমরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করি, সে জায়গাটাই জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। সাধারণভাবে মৃত্যুও নয়, নির্মমতার ঝড় বয়ে গেল ওদের শরীরের ওপর। ঘাতকরা সাগরের শরীরে ২৩টি স্থানে ছুরিকাঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যুকে আরও, আরও নিশ্চিত করে। ঘাতকের কী ভয়ঙ্কর আক্রোশ! তেমনি ঘাতকরা রুনিকে হত্যা করে পেট চিরে দিয়েছে। রুনির নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। আহ! কী নৃশংসতা, কী ভয়াবহতা! কী দোষ ছিল ওদের? সাংবাদিকতার অগ্রজ হিসেবে আমি ওদের জানি। ওরা সদালাপী, বিনয়ী এবং প্রাণোচ্ছল এক দম্পতি। সাগর আমার সঙ্গে কাজ করেনি সত্য, কিন্তু ওকে চিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। কথা বলত কিন্তু কখনোই উচ্চৈঃস্বরে নয়। অমায়িক তার ব্যবহার। রুনিকেও দেখেছি গল্পবাজ হিসেবে। কিন্তু কখনও কোথাও ওর বিনয়ের ঘাটতি দেখিনি। আজ যখন রুনির চরিত্র হননের দূর দিয়ে একটি প্রচেষ্টা দেখতে পাই, ভীষণ দুঃখ হচ্ছে। যার সম্পর্কে কোনো দুর্নাম কিংবা নেতিবাচক কিছু কোনোদিন শুনিনি—আমার মন বলছে নিশ্চয়ই ওগুলো অপবাদ, নিশ্চয়ই ওগুলো খুনিদের কাজ। তারা খুনের দায় থেকে পার পেতে চায়। খুন নিয়ে কথা বলছিলাম। হ্যাঁ, খুন! বাংলাদেশ যেন খুনের এক উপত্যকা। এখানে কথায় কথায় মানুষ খুন হচ্ছে। একজন খুন করছে আরেকজনকে। ছোরা বসিয়ে দিতে কিংবা গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে দিতে খুনিদের বুক এতটুকু কাঁপছে না। পশু-পাখি গুলি করে মারার মতো তারা মানুষ খুন করছে। সাপকে যেভাবে মানুষ মারে, সেভাবেও মানুষ খুন হচ্ছে। খুন করে লাশের ওপর উন্মত্ত নৃত্য চলছে। এ-ই হলো অবস্থা। পুলিশের হিসাবেই বাংলাদেশে প্রতিদিন ১০ জন করে মানুষ খুন হচ্ছে। গত তিন বছরে ৯ হাজার ১০৪ জন খুন হয়েছে। শুধু পুলিশের খাতাতেই এ হিসাব সংরক্ষিত আছে। এর বাইরে বাংলাদেশে অসংখ্য খুন হচ্ছে, যার হিসাব পুলিশের খাতায় নেই। প্রতিদিন সকালে সংবাদপত্রের পাতা খুললেই চোখে পড়ে রক্তাক্ত খুনের খবর। অতিতুচ্ছ কারণে ঘটছে এসব খুনের ঘটনা। সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে একজন আরেকজনকে খুন করছে। খুন হচ্ছে জমির দখল নিয়ে, নেতৃত্বের কোন্দল নিয়ে, আধিপত্য নিয়ে, প্রভাব-প্রতিপত্তি ধরে রাখা নিয়ে। খুন হচ্ছে রাজনীতির জন্য। চাঁদার দাবি মেটাতে না পারলে মানুষ খুন করা হচ্ছে। এমনকি কথাকাটাকাটি নিয়েও একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলছে। খুন এখন বাংলাদেশের নগরজীবনে যেন প্রাত্যহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। খুনিরা কোনো বাধা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এই নিষ্ঠুর খেলা। দেখা গেছে, খুনিদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অনেক সময় খুনিকে ধরার ব্যাপারে পুলিশও তত্পর নয়। কারণ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খুনি-সন্ত্রাসীদের সখ্য আছে। নইলে সাগর-রুনি দম্পতিসহ গত তিন বছরে ১৪ জন প্রতিভাবান সাংবাদিক খুন হলো, তাদের একজন খুনিরও বিচার হয়নি; ধরা পড়েনি কোনো খুনি। খুনিরা অস্ত্র আর পেশিশক্তির বলে বলীয়ান। মানুষ খুন যেন তাদের কাছে নেশা হয়ে গেছে। তাই তারা খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। একের পর এক খুন চলতেই থাকে। একটি খুনের মামলা নিয়ে নাড়াচাড়া পড়তেই ঘটে যাচ্ছে আরেকটি খুন; ফলে সব খুনের ঘটনাই একে একে ধামাচাপা পড়ে যায়। খুনের এই নিষ্ঠুর খেলা কি কখনও বন্ধ হবে—সাধারণ মানুষের এটাই প্রশ্ন। দেশের আইনশৃঙ্খলা, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পদত্যাগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের কথা শুনলে মনে হয় না দেশে কোনো সমস্যা আছে। খুনের এই যে মহামারী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গায়েও তা লাগছে না। খুনসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্টিফিকেট একটাই—‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন ভালো।’ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে মেরে লাশ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখেছিল বিএসএফ। দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় ফেলানীকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও নিউইয়র্কে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিব্যি বলে দিলেন—‘ফেলানী বাংলাদেশের নাগরিক নয়।’ এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি কোনো সভ্য দেশে করলে কবেই মন্ত্রিত্ব যেত। কিন্তু বাংলাদেশের মন্ত্রিত্বের জন্য এগুলোই মানদণ্ড। আর পদত্যাগ; সেটা তো তাদের ক্ষেত্রে চিন্তাই করা যায় না! আওয়ামী লীগের মহাজোটের গত তিন বছরের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অন্তত একশ’টি ঘটনা ঘটেছে, যার একটিই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু একশ’টি কেন, এ ধরনের এক হাজারটি ঘটনা ঘটলেও, পাঁচ বছরজুড়ে ঘটলেও পদত্যাগের নাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেবেন না। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বিডিআর বিদ্রোহের আড়ালে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সেনাবাহিনীকে পঙ্গু করে ফেলা হলো। সেসব সেনা কর্মকর্তার লাশ একটি গর্ত করে পুঁতে ফেলেছিল বিদ্রোহীরা। কারও কারও লাশ ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এত বড় নৃশংস ঘটনা ঘটল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন না। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা, গুপ্তহত্যা, অপহরণ-গুম, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, কারাগারে মৃত্যু ইত্যাদিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন বছরে দেশে ক্রসফায়ারে ৪৫০ জন নিহত হয়েছে। ২০১১ সালে ক্রসফায়ার নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হওয়ায় ক্রসফায়ার কিছুটা কমে আসে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধের নতুন কৌশল হিসেবে শুরু হয় গুম আর গুপ্তহত্যা। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং অধিকারের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জন মানুষ গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছে তিন বছরে ৯ হাজার ১০৪ জন। অপহরণ হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপর্যুপরি ঘটনা ঘটেছে দেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়নের ছাত্র আবদুল কাদেরকে ধরে নিয়ে খিলগাঁও থানায় আটক রেখে অপরাধী সাজিয়ে তাকে নির্যাতন চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, আবদুল কাদের ছিল সম্পূর্ণ নির্দোষ। র্যাব কর্তৃক কলেজছাত্র লিমনকে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়। ঢাকার অদূরে আমিনবাজারে শবেবরাতের রাতে ৬ ছাত্রকে পুলিশের সহায়তায় ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত এই হত্যার জন্য পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করেছে। তদন্ত শেষে বলা হয়—ছাত্ররা ডাকাত ছিল না, মেধাবী ছাত্র। তারা পুলিশের সহায়তা চেয়েও পায়নি। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশই কিশোর মিলনকে পিটিয়ে হত্যার জন্য জনতার মধ্যে ছুড়ে দিয়েছিল। পুলিশ হেফাজতে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এমইউ আহমদ নির্মমভাবে মারা যান। গত ৬ জুলাই হরতাল চলাকালে সংসদ ভবনের সামনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁঁপিয়ে পড়েছিল পুলিশ। জয়নুল আবদিন ফারুককে রাজপথে ফেলে পুলিশ বুট জুতা দিয়ে বুক, মুখ ও মাথায় কীভাবে লাথি মেরেছে, কিল-ঘুষি মেরেছে তা সবাই দেখেছে। তার মাথা থেকে সেদিন ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়। সেই পুলিশের কোনো বিচার হয়নি, বরং পুরস্কৃত হয়েছে দায়ী পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এজন্য দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেননি। ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম গুম হয়েছেন দু’বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। তিনি মরে গেছেন না বেঁচে আছেন, কেউ তা জানে না। নরসিংদীর জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা ইব্রাহিমকে। গুলশানে হত্যা করা হয় মা ও মেয়েকে। তিন বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৫৯২ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ আসামির দণ্ডাদেশ রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেন। নাটোরের চাঞ্চল্যকর গামা হত্যা মামলার ফাঁসির ২০ আসামি, লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি বিপ্লব, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিএনপি সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবীব টিটু এবং সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলের দণ্ড মওকুফ করে দেন রাষ্ট্রপতি। গত তিন বছরে ১৪ জন সাংবাদিক নৃশংস খুনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাব অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ওপর তিন বছরে ৫২৯টি আক্রমণ হয়েছে। ২০১১ সালে আক্রমণ হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ২০৬টি। তেমনি সীমান্তে তিন বছরে বিএসএফ ২০৩ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। ফেলানীর হত্যা সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাবিবকে উলঙ্গ করে সীমান্তে বিএসএফ মধ্যযুগীয় বর্বরতায় কীভাবে নির্যাতন করেছে, সেটাও বিশ্ববাসী দেখেছে। এভাবে ক্রসফায়ার, গুপ্তহত্যা, নৃশংস খুন, সাংবাদিক হত্যা, সীমান্তে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও নির্বিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। পদত্যাগ তো দূরের কথা, এসব ঘটনার জন্য অনুশোচনা পর্যন্ত করতে দেখা যায়নি তাকে। অথচ প্রতিবেশী ভারতসহ কয়েকটি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির আমাদের সামনেই আছে। মহারাষ্ট্রের তাজমহল হোটেল ও ব্যাঙ্গালোরে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯২ জন লোক নিহত হওয়ার পর ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাতিল পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে বর্বর হামলার দায়দায়িত্ব নিতে তিনি ‘নৈতিকভাবে বাধ্য’। গত বছর এপ্রিলে ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলায় ৭৬ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর হামলার সব দায় তার কাঁধে নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদাম্বরম। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছত্তিশগড়ে যা ঘটেছে, তার সব দায় আমি নিচ্ছি।’ অবশ্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ তার পদত্যাগ প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০১১ সালের জুলাই মাসে নরওয়েতে এক পাশ্চাত্য জঙ্গির হামলায় ৭৭ জন লোক নিহত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন সেদেশের বিচার ও পুলিশমন্ত্রী নাট স্টোরবার্গেট। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে পুলিশ হেফাজতে এক কুয়েতি নাগরিকের মৃত্যুর পর পদত্যাগ করেন কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাবের আল খালেদ আল সাবাহ। তিনি কুয়েতের শাসক পরিবারের সদস্য। নিজের ব্যক্তিগত খরচকে সরকারি খরচ হিসাবে দেখিয়ে মাত্র ২ হাজার পাউন্ডের মতো অর্থ গ্রহণ করায় ২০০৯ সালের জুন মাসে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকুই স্মিথ।