সৈয়দ আবদাল আহমদ | সাংবাদিক ও কলামিস্ট
পাখির চোখে দেখা

হিলারিকে নিয়ে হৈচৈ

সৈয়দ আবদাল আহমদ

০৫, মে ২০১২




বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। ২০ ঘণ্টার সফরে আজ বিকালে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছবেন। তার এই সফর নিয়ে রীতিমত হৈচৈ পড়ে গেছে। হিলারির সফরকে শান্তিময় করে তুলতে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ঘুম নেই। রাজধানী ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অপশাসনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ যখন ক্ষুব্ধ, বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করছে—ঠিক এ সময়ে হিলারির বাংলাদেশে আসা সরকারের জন্য অনেকটা স্বস্তির। অন্তত হিলারিকে কেন্দ্র করে মানুষের দৃষ্টি সাময়িকভাবে হলেও অন্যদিকে ফেরানো যাবে। একইভাবে শক্ত হাতে বিরোধী দল দমনেরও একটা অপূর্ব সুযোগ পাওয়া গেল। হিলারির সফরের সময় কিছু করা সমীচীন হবে না ধরে নিয়ে বিরোধী দলও তেমন উচ্চবাচ্য করবে না। আমেরিকা তথা হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনকে চটাতে চাইবে না বিএনপি।

বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে আমেরিকা একটি ফ্যাক্টর। সামনে বিএনপি তাদের একটি সম্ভাবনা দেখছে। সেই সুযোগটি সামান্য ভুলে তারা হাতছাড়া করতে রাজি নয়। এজন্য আপাতত হরতালসহ আন্দোলনে বিরতি। তাই একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর হলেও হিলারিকে নিয়ে এত হৈচৈ। এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল এক জায়গায়। হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো সফরে আসছেন। এর আগে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালের ২ এপ্রিল তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তিনি এসেছিলেন ফার্স্টলেডির মর্যাদা নিয়ে। আর এবার আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে। হিলারি তার ক্ষমতার মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে হঠাত্ কেন বাংলাদেশ সফরে আসছেন? এ বিষয়টি সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে কূটনৈতিক মহল থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তা হচ্ছে মার্কিন স্বার্থ। এই স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই হিলারি অনেকটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা তার সফরকে আবার ফিরিয়ে আনলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পরই শোনা গিয়েছিল, হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে আসবেন। পারিবারিক বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কারণে বাংলাদেশের প্রতি হিলারি ক্লিনটনের একটা দুর্বলতা আছে, এটা কমবেশি সবারই জানা। তাই বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন হিলারি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। ড. ইউনূস সম্পর্কে শেখ হাসিনার বিরূপ মন্তব্য এবং গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যমূলক তদন্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। এই নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি বিবৃতিও দেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মনোভাব পরিবর্তন করেননি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয় তা ত্বরিত গতিতে কার্যকর করা হয়। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেন যে, আপাতত তিনি বাংলাদেশ সফরে আসছেন না। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকেই যাচ্ছে। ওয়াশিংটন অপেক্ষায় ছিল, রূপরেখা বাণিজ্য চুক্তি (টিকফা) সইয়ের মতো অমীমাংসিত বিষয়েও সুরাহা হবে। কিন্তু তাও হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এসব প্রত্যাশিত বিষয় পূরণের পরিবর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নাজেহাল ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই হিলারি চিঠিতে জানিয়ে দেন, পরিবেশ উন্নত হলেই কেবল তিনি ১৯৯৫ সালের মতো বাংলাদেশ সফরে আসবেন। কিন্তু এরপর হঠাত্ দেখা গেল হিলারির বাংলাদেশ সফরের ঘোষণা। তাহলে হিলারির প্রত্যাশা অনুযায়ী সেই পরিবেশ কি বাংলাদেশে এখন বিরাজমান? সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অবস্থার কি উন্নতি হয়েছে? সন্ত্রাস ও দুর্নীতি কি দমন হয়েছে? নিশ্চয়ই না। বরং বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপের দিকেই গেছে এবং যাচ্ছে। সরকারের সোয়া তিন বছরের শাসনামলে চারদিক থেকেই নাভিশ্বাস উঠেছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের তুলনায় খারাপ। গত ২৭ মাসে শুধু গুমের শিকারই হয়েছেন ১২২ ব্যক্তি। এদের কারও কারও লাশ পাওয়া গেছে ডোবা, নদী-নালা কিংবা বিল-ঝিলে। আবার এমন হতভাগ্যরাও আছেন যাদের লাশটা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার মানুষের মধ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীই বেশি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতা ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম গুম হয়েছেন দুই বছরেরও বেশি সময় হয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন না হত্যার শিকার হয়েছেন, আজ পর্যন্ত তার পরিবারের কেউ জানে না। গত ১৭ মার্চ বিরোধী দল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে মধ্যরাতে রাজধানীর একটি সবচেয়ে প্রটেকটেড সড়ক বনানী থেকে গুম করা হয়। ১৯ দিন হলো, আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে রাজধানীতে তাদের ফ্ল্যাটের বেডরুমে হত্যা করা হয়। আজ পর্যন্ত খুনি চক্রকে চিহ্নিত এবং গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শুধু সাগর-রুনিই নয়, এ সরকারের তিন বছরে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের একের পর এক নির্যাতন করা হয়েছে। এ সরকার তিনজন পত্রিকা সম্পাদককে গ্রেফতার করে জেলে নিয়েছে। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকা অফিস থেকে বর্বরোচিতভাবে গ্রেফতার করে সরকার শুধু জেলেই নিয়ে যায়নি, ১২ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৫৩টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেই চলেছে। বাংলাদেশে সুশাসন যে নির্বাসনে গেছে, গণতন্ত্রের আড়ালে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে; তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল সঠিকই লিখেছেন, ‘যে সরকার যত বেশি ফ্যাসিস্ট, সেখানে তত বেশি গুম হয়।’ বাংলাদেশের অবস্থাও এখন সেটাই। কিন্তু এমন একটা পরিস্থিতিতেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এটা ভিন্ন হিসাব। সুশাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার—বাংলাদেশের জন্য এগুলো মার্কিন ইস্যু নয়। বাংলাদেশে মার্কিন ইস্যু হচ্ছে তার স্বার্থ সংরক্ষণ। সেই স্বার্থের মধ্যে রয়েছে চীনের উত্থানকে থামিয়ে দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যে নীতি নিয়েছে সেই নীতির সঙ্গে বাংলাদেশ আছে কিনা, তেল ও গ্যাস সম্পদ আহরণে মার্কিন কোম্পানিকে বাংলাদেশ সুযোগ দেবে কিনা এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টিকফা চুক্তিটি হবে কিনা। এ তিনটি বিষয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। তাই আর দেরি নয়। বাংলাদেশ সফরে আসতে বিলম্ব করেননি হিলারি ক্লিনটন। মূলত চীন সফরের জন্য ছিল তার পূর্বনির্ধারিত শিডিউল। সেই শিডিউলেই তিনি বাংলাদেশ এবং ভারত সফরের সূচিও অন্তর্ভুক্ত করেন। আজ ৫ মে বিকাল চারটায় চীন থেকে তিনি ঢাকায় আসবেন। এখানে ২০ ঘণ্টা অবস্থানের পর হিলারি যাবেন কলকাতায় এবং সেখান থেকে দিল্লিতে। ঢাকা সফরে মার্কিন স্বার্থই প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশে ২০ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিলারি ক্লিনটনের এই সফরটি খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। এই সফরকালে হয়তো রূপরেখা ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি (টিকফা) সই হবে না। তবে এই চুক্তিটির ব্যাপারে উভয় সরকার একটি সমঝোতায় এসেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। হিলারি ক্লিনটন এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সম্মতি আদায় করে নিয়ে যাবেন এবং পরবর্তী একটি সুবিধাজনক সময়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। আপাতত হবে পার্টনারশিপ ডায়ালগ এগ্রিমেন্ট। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে সরকারের ওপর হিলারির কিছুটা রাগ থাকলেও সেটা একটি গৌণ বিষয়। তবে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন হিলারি ক্লিনটন ও তার দেশ। কূটনৈতিক মূল্যায়ন হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অগ্রাধিকার খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জলবায়ু মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের সফলতা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বা ফুড সিকিউরিটিকে শেখ হাসিনা খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। জলবায়ু সমস্যা সমাধানে তার সরকার সোচ্চার। একইভাবে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে এ সরকার খুবই কঠোর। শেখ হাসিনা সরকার ইসলামী দলগুলোকে কোণঠাসা করে রেখেছেন। মোল্লাদের কাবু করে ফেলেছেন। আগে ইসলামী দলগুলোর যে বিশাল বিশাল মিছিল বের হতো এখন আর হয় না। জঙ্গি বিষয়টি অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র খুশি। আর এ পরিস্থিতিতে হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরে না আশাটা বরং ভুল হতো বলে তাদের মূল্যায়ন। এসব চিন্তা করেই হিলারি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাহলে মানবাধিকার নিয়ে এত হৈচৈ করে কেন? বাংলাদেশে এত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও, গুমের ঘটনা মহামারীর আকার ধারণ করলেও হিলারি কি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন? প্রশ্ন না তুললে যে কারোর মনেই সন্দেহ জাগবে, হিলারির সফর সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডকেই অনুমোদন দিচ্ছে। কূটনীতিকদের কাছে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে অভিজ্ঞ একজন কূটনীতিকের বিশ্লেষণ হচ্ছে— বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব একেক দেশের জন্য একেক রকম। চীন সফরকালে হিলারি মানবাধিকারকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মানবাধিকার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন বক্তব্য থাকবে তবে সেটা থাকবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে। হিলারির সফর এক্ষেত্রে বাধা নয়। হিলারি বাংলাদেশে অবস্থানকালে সিকিউরিটি, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে কাজ দেয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার এবং টিকফা চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। তাছাড়া হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশকে চীন বলয় থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের হাতকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়ে যাবেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। কোনো সরকারি ভোজে তিনি অংশ নাও নিতে পারেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গেও তিনি বৈঠক করতে চাননি। তবে বাংলাদেশের অনুরোধে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের একটি বৈঠক করবেন। সিভিল সোসাইটির সঙ্গে বৈঠকে থাকবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ফজলে হাসান আবেদ। বিরোধীদলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও হিলারির একটি বৈঠক হবে। আজ রাতে সেই বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া গুম ও গুপ্তহত্যাসহ রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করলে হিলারির এ বিষয়ে কিছু মন্তব্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। উপমহাদেশে মার্কিন এজেন্ডা ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের পর থেকে পাকিস্তান ছিল এ অঞ্চলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পয়লা নম্বরের মিত্র। অন্যদিকে ভারত ছিল তার সন্দেহের তালিকায়। সেই পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ উল্টো। গত বছরের জুলাইয়ে হিলারি ক্লিনটনের ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিতীয় দফার ‘কৌশলগত’ আলোচনা এ অঞ্চলের ঘটনা প্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ওসামা বিন লাদেনের হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত’ সম্পর্কে চির ধরে। পরিস্থিতি এতটাই অবনতি ঘটে যে, যুক্তরাষ্ট্র তার পাকিস্তানকে দেয়া সামরিক সাহায্যের ব্যাপক কাটছাঁট করে। যে আইএসআই এতদিন পর্যন্ত ছিল মার্কিন সিআইএ’র সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, তা এখন সরকারিভাবে শত্রুর তালিকায় স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও এখন চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার যে প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছে, এখন সেটা পরিপূর্ণ রূপ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যেই ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করার কথা বলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের উত্থানকে ‘থ্রেট’ হিসেবেই দেখছে। একইভাবে ইরানের নড়াচড়াও ভালো চোখে দেখছে না। আর সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র চায় এ অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে ভারত বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হোক। গত বছর ভারত সফরকালে হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্য তারই প্রমাণ। ২০১১ সালের ২০ জুলাই চেন্নাইয়ে ভারতকে এশিয়ার নেতার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান হিলারি। তিনি বলেন, এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্যই এই অঞ্চলে ভারতের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ভারতের নেতৃত্ব গড়ে ওঠার ইতিবাচক পরিস্থিতি রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উত্সাহ দিচ্ছি। আপনারা এটা চালিয়ে যান। ভারতের উচিত আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করা। হিলারির এ বক্তব্যে এশিয়ার শক্তিধর দেশ চীনের বিপরীতে সম্ভাব্য শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারতকে দেখার আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত মেলে। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কৌশলগত পার্টনার। চীনের বিপরীতে শক্তিশালী ভারত দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশগুলোও যাতে যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতিকে সমর্থন দেয় সেটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির মিশনও তাই। এক সময় সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ব্যাপারে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। এখন সেটা হ্রাস পাচ্ছে। সামরিক সরঞ্জাম বাংলাদেশ এখন কোরিয়া ও রাশিয়া থেকে কিনছে। প্রশিক্ষণের জন্য ভারতকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তাতে খুশি। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে সমর্থন করে বাংলাদেশ যদি শক্তিশালী ভারত গঠনে ভূমিকা রাখে সেক্ষেত্রে হিলারি বাংলাদেশে না এসে তো পারেন না। বর্ণাঢ্য জীবনের একজন হিলারি হিলারিকে নিয়ে হৈচৈ তো পড়বেই। হিলারি সাধারণ একজন মানুষ নন। তিনি বিশ্বের যেখানে যান, সেখানেই হৈচৈ হয়। তিনি বাংলাদেশে আসছেন, এখানেও হৈচৈ হবে—এটাই স্বাভাবিক। হৈচৈ হওয়ার মানুষই তিনি। হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন, বাংলাদেশে আপনাকে সুস্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের একটি খুবই মধ্যবিত্ত পরিবারে হিলারির জন্ম। পারিবারিক নাম হিলারি রডহ্যাম। ছেলেবেলায় হিলারি চেয়েছিলেন একজন পরমাণু বিজ্ঞানী বা শিক্ষক হবেন। কারণ তার মনে দাগ কাটে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিজ্ঞানীর বিপরীতে রাশিয়ায় আছেন পাঁচজন বিজ্ঞানী। কিন্তু ক্লাসে অংক ও জীববিজ্ঞানে তিনি খুব একটা ভালো করতে পারছিলেন না। ফরাসি শিক্ষক হিলারিকে বললেন তোমার টেলেন্ট অন্য জায়গায়। সেই অন্য জায়গাটা হলো রাজনীতি। তাই ষাটের দশকে রাজনীতিই তাকে দেশের প্রতি তার দায়িত্বকে জাগিয়ে তোলে। আর রাজনীতিতে আগ্রহী হওয়ার কারণে তিনি ডিবেট শিখেছিলেন। বিশ্বশান্তি বা বেসবল যে কোনো বিষয়ে ডিবেটে তিনি তার সহপাঠীদের হারিয়ে দিতেন। আইন পড়ার সময় বিল ক্লিনটনের সঙ্গে তার সাক্ষাত্। বিল ক্লিনটন বারবার তার দিকে তাকাতেন। কিছু বলতেন না। একদিন তিনি নিজেই গিয়ে বললেন—আমার নাম হিলারি রডহ্যাম। এরপর থেকে ঘনিষ্ঠতা। দু’জনই দু’জনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। ১৯৭৫ সালের ১১ অক্টোবর বিলকে বিয়ে করেন হিলারি। বিল একদিন প্রেসিডেন্ট হবেন সে কথা তার ছাত্রজীবনেই ছড়িয়ে পড়ে। হিলারিও মনেপ্রাণে সেটা বিশ্বাস করতেন। বিয়ের দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও হিলারি তার নামের পাশে ক্লিনটন জুড়ে দেননি। এ নিয়ে বিল ক্লিনটনও তাকে কিছু বলেননি। যদিও তার পরিবারের মধ্যে এ নিয়ে গুঞ্জন ছিল। তবে আরাক্যান্সাসের গভর্নর হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে হেরে যাওয়ার পর দলের ঘনিষ্ঠ এক রাজনৈতিক সহকর্মীর পরামর্শে তিনি হিলারি রডহ্যামের সঙ্গে ক্লিনটনও লিখতে সম্মত হন। এরপর নাম হয় হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। পরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্লিনটন আবারও গভর্নর হন। বিল ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি হিলারি ক্লিনটন ফার্স্টলেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে যান। ফার্স্টলেডি হিসেবে তার রয়েছে আট বছরের অভিজ্ঞতা। এই মর্যাদা তাকে বিশ্বের ৭৮টি দেশ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। আইনের ছাত্রী হিসেবে আইন পেশায়ও রয়েছে তার সুখ্যাতি। শিশুদের অধিকার এবং মানবাধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। দু’বার নিউইয়র্কের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হিলারি ক্লিনটন। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্যতম প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দলীয় মনোনয়ন জেতার দৌড়ে অকল্পনীয়ভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে হেরে যান হিলারি। তবে দেশ-বিদেশে তার বিপুল পরিচিতি এবং তার কূটনৈতিক পাণ্ডিত্যের কারণে হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিয়োগ দেন তারই প্রতিদ্বন্দ্বী বারাক ওবামা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও তিনি বিপুল দক্ষতা আর সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। বলাবাহুল্য, তার বিদেশ সফর আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো প্রমোদভ্রমণ নয়। নিজ দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। আরব বসন্তে জোরালো সমর্থন দিয়ে আরব জাহানে পরিবর্তন আনতে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তিনি আবারও ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ১৯৫০-এর দশকে একজন ‘গোল্ডওয়াটার বালিকা’ থেকে একজন ছাত্রকর্মী এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন ফার্স্টলেডি হিসেবে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি পরিচিত। ১৯৯৫ সালের মার্চের শেষ দিকে হিলারি ফার্স্টলেডি হিসেবে এশিয়ার পাঁচটি দেশ—পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা সফর করেন। ৪১ জন সফরসঙ্গী নিয়ে তিনি এসেছিলেন। এই পাঁচটি দেশ সম্পর্কে তার চমত্কার অভিজ্ঞতার কথা তিনি লিখেছেন তার ‘লিভিং হিস্ট্রি’ বইতে। ২ এপ্রিল ১৯৯৫ বাংলাদেশ সফরে এলে তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানান তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা-হিলারি বৈঠক, নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হিলারি। পাশে ছিলেন খালেদা জিয়া। তখন এই লেখক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব। হিলারি খালেদা জিয়াকে দেখিয়ে বলেন, ‘আপনারা সৌভাগ্যবান। খালেদা জিয়ার মতো একজন নারীকে প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এখনও এ অবস্থানে আসতে পারেনি।’ শুধু তা-ই নয়, হিলারি ক্লিনটন তার ‘লিভিং হিস্ট্রি’ বইয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ হলো এই ধরণীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সম্পদ আর দারিদ্র্যের উলঙ্গতম চিত্র দেখেছি আমি। ঢাকার হোটেল রুমের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আমি দেখতে পেয়েছিলাম একটি বাঁশের বেড়া চলে গেছে যার একদিকে রয়েছে ঝুপড়ি আর আবর্জনার স্তূপ, অন্যদিকে রয়েছে সুইমিংপুল আর ক্যাবানা, যেখানে আমার মতো অতিথিরা পানীয় উপভোগ করতে পারেন এবং সাঁতার কাটতে পারেন। এটা যেন পৃথিবীর অর্থনীতির ঠিক দুই প্রান্তকে একসঙ্গে দেখা, যেখানে এসে তারা মিশে গেছে। এখানে কর্তৃপক্ষ উজ্জ্বল রঙিন কাপড় দিয়ে সেই দৈন্য ঢাকার চেষ্টা করেনি।’ হিলারি লিখেছন, ‘এই শহরে দেয়ালের সঙ্গে দেয়াল পর্যন্ত মানুষ, প্রতি বর্গফুটে এত মানুষ আমি আর কোথাও দেখিনি। সবাই ছোট গাড়িতে করে চলাফেরা করে। ফলে রাস্তায় জট লেগে যায় অথবা বিশাল জনসমুদ্র সেগুলো পথেঘাটে উপচে পড়ে। বেশ কয়েকবার আতঙ্কে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল, যখন দেখেছি গাড়ি হুমড়ি খাওয়ার মতো করে একদল মানুষের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গরম আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যে বাইরে হেঁটে যাওয়া যেন বাষ্পায়িত সনার ভেতর প্রবেশ করা।’ তবে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু এটা আরেকটি দেশ যা আমি অনেক আগে থেকেই দেখতে চেয়েছিলাম। কারণ এই দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত দুটো প্রকল্পের জন্মভূমি—ঢাকায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিস রিসার্চ (আইসিডিডিআর/বি) এবং ক্ষুদ্রঋণের অগ্রপথিক গ্রামীণ ব্যাংক।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি খুবই কম। সেখানেও অনেকটা বাংলাদেশের মতোই স্বামীদের মৃত্যুর পর নারীরা তার স্বামীর আসন ধরে রাখতে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। তবে হিলারি এক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যতিক্রম। তিনি বিল ক্লিনটনের সমান্তরালে নিজেকে প্রশংসনীয় রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে জনপ্রিয়তায় তিনি তার স্বামী বিল ক্লিনটনের চেয়ে তো বটেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন। এ মুহূর্তে বিশ্বের এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে যিনি হিলারির নাম শোনেননি কিংবা তাকে চেনেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ছাড়াও ওবামা প্রশাসনে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নারী মন্ত্রী হিসেবে আছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জেনেট ন্যাপোলিটানো ও শ্রমমন্ত্রী হিল্ডা সলিস। এর বাইরেও আছেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি সনিয়া সটোমায়ার ও এলেনা কাগান। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ন্যান্সি পেলোসি। তিনি এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে সর্বোচ্চ পদাধিকারী নারী রাজনীতিক। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ম্যাককেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন আলাস্কার সাবেক গভর্নর সারাহ পলিন। কিন্তু ম্যাককেইন হেরে যাওয়ায় তারও ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। বর্তমানে টিভি টকশো উপস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণাঙ্গ কন্ডোলিজা রাইস বর্তমানে আর আলোচনায় নেই। তবে যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেডেলিন অলব্রাইট। কন্ডোলিজা রাইস ও মেডেলিন অলব্রাইট বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ১৭৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ৩৯ জন মহিলা সিনেট সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটে ১৭ জন সিনেটর মহিলা।




favorite
লেখক সম্মানী